আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেওয়া একজন সাক্ষীকে জেরা করতে চেয়েছিলেন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক। তবে ট্রাইব্যুনাল তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেননি। ২৫শে মার্চ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ এই ঘটনা ঘটে।
২০১৬ সালে যশোরের চৌগাছা উপজেলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতার পায়ে গুলির ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রথম সাক্ষী মো. ইসরাফিল হোসেনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় ২৫শে মার্চ বৃহস্পতিবার বেলা দুপুর পৌনে ২টার দিকে। তখন ১৫ মিনিটের মতো সময় ছিল ট্রাইব্যুনালের মধ্যাহ্ণভোজের বিরতিতে যাওয়ার।
এ সময় ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে করা মামলার সপ্তম সাক্ষী মো. কবির হোসেন মৃধাকে জেরা করার আদেশ দেন। তখন ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়ায় থাকা আসামি পলক বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমি জেরা করতে চাই।’ ট্রাইব্যুনাল বলেন, পরে শোনা হবে।
তখন পলকের আইনজীবী এম লিটন আহমেদ বলেন, তাঁর মক্কেল বিরতিতে যাওয়ার আগের ১৫ মিনিট জেরা করতে চান। এ সময় আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী মো. মনজুর আলম বলেন, আসামি পলক নিজেও একজন আইনজীবী। আইন অনুযায়ী তাঁর জেরার করার অধিকার রয়েছে।
তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামি পলকের জেরা করার আবেদনের বিরোধিতা করা হয়। ট্রাইব্যুনাল পলকের এই আবেদন মঞ্জুর করেননি। একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের আদেশে সাক্ষী কবির হোসেনকে জেরা করা শুরু করেন আইনজীবী লিটন আহমেদ।
এর আগে ১৫ জুন দেওয়া জবানবন্দিতে সাক্ষী কবির হোসেন বলেছিলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং পলকের বিচার চান। কারণ, তাঁরা ইন্টারনেট বন্ধ না করলে তিনি সঠিক সময়ে তাঁর ছেলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারতেন এবং তাঁর ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে পারতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে উত্তরা এলাকায় বিজয় মিছিলে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল তাঁর ছেলে।
আইনজীবী লিটন আহমেদের জেরায় সাক্ষী কবির হোসেন বলেন, সময়মতো তাঁর ছেলের চিকিৎসা হলে বাঁচানো যেত বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা তাঁর নিজস্ব মতামত।
মধ্যাহ্ণভোজের বিরতিতে যাওয়ার আগে কবির হোসেনকে ১৫ মিনিটের জেরা শেষ হলে আসামি পলক কী বলতে চেয়েছিলেন, তা বলতে বলেন ট্রাইব্যুনাল। তখন পলক বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনীসহ তিনি পড়ে দেখেছেন। তাতে অভিযুক্ত হিসেবে তিনি সাক্ষীকে জেরা করতে পারেন। তাঁর আইনজীবী আমিনুল গণী মারা গেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইনজীবীর সংখ্যা কম। এতে ‘নাবিকবিহীন নৌকার’ মতো অবস্থায় পড়েছেন তাঁরা। তিনি আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরীকে ইতিমধ্যে নিয়োগ দিয়েছেন। মনসুরুল হকও অসুস্থ। এ কারণে তিনি অনুরোধ করেছিলেন যে ট্রাইব্যুনাল অনুমতি দিলে তিনি বিচারকাজে (জেরায়) অংশগ্রহণ করতে চান। এ সময় তিনি সাক্ষীকে জেরা করার জন্য ‘একটু সময়’ দেওয়ার আবেদনও করেন।
মধ্যাহ্নভোজের আগ পর্যন্ত বিচার কাজ পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। তিনি বলেন, মধ্যাহ্নভোজের পর যখন ট্রাইব্যুনাল বসবেন, তখন এ বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর বেলা ৩টার দিকে ট্রাইব্যুনাল বসেন। তখন উপস্থিত ছিলেন ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষী কবির হোসেনকে বাকি জেরা করার জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এ মামলার অপর আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক।

