Homeআন্তর্জাতিক আইন-আদালতআদানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কেন, প্রশ্ন তুললেন মার্কিন ফেডারেল বিচারক

আদানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কেন, প্রশ্ন তুললেন মার্কিন ফেডারেল বিচারক

আল–জাজিরা

ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ কেন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার পক্ষে যুক্তি দেখাতে মার্কিন বিচার বিভাগকে (ডিওজে) নির্দেশ দিয়েছেন সে দেশের এক ফেডারেল বিচারক।

বিচার বিভাগ আর মামলাটি চালাতে চায় না—এমন ঘোষণার এক মাস পর গতকাল শুক্রবার এ নির্দেশ এল। গত বুধবার আদানির আইনজীবীরা ব্রুকলিনভিত্তিক মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ নিকোলাস গারাউফিসের আদালতে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

গত বুধবার আদালতের নথিতে প্রকাশিত একটি লিখিত রায়ে গারাউফিস বলেন, মামলাটি বাদ দেওয়ার বিষয়ে সরকারি আইনজীবীদের নোটিশে তাঁদের সিদ্ধান্তের পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা নেই। এর বিশদ তথ্য জমা দিতে তিনি আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।

গারাউফিস লিখেছেন, সরকারের সংক্ষিপ্ত, সাদামাটা ও একপক্ষীয় বক্তব্য আদালতকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য পর্যাপ্ত ভিত্তি দেয় না কিংবা মামলা প্রত্যাহারে সরকারের আবেদনের কোনো চুলচেরা বিশ্লেষণ করার সুযোগও দেয় না।

আদানির আইনজীবী রবার্ট জিউফ্রা বুধবার বিচারক গারাউফিসকে লেখা তাঁর চিঠির বিষয়টি উল্লেখ করেন। সেখানে তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, মামলাটি খারিজ করা উচিত। কারণ, এটি মার্কিন আইনের আওতার বাইরে এবং সরকারি আইনজীবীরা ভারতে কথিত ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করতে পারবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে আদানি এক হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই বিচার বিভাগ (ডিওজে)) মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়।

ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ারস ইনডেক্স অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ১৭তম ধনী ব্যক্তি আদানি। একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি পাওয়ার জন্য ভারতের সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে রাজি হওয়ার অভিযোগে ২০২৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। পাশাপাশি কোম্পানির দুর্নীতিবিরোধী নীতি সম্পর্কে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগও আনা হয়েছিল।

গত মে মাসে এ মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তটি এমন সময়ে আসে, যখন আদানি তাঁর আইনজীবী হিসেবে জিউফ্রাকে নিয়োগ করেন, যিনি একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীদেরও একজন।

জিউফ্রার আইনি দলের সদস্য জেমস ম্যাকডোনাল্ডকেও ট্রাম্প ম্যানহাটানের শীর্ষ ফেডারেল আইনজীবী (প্রসিকিউটর) হিসেবে বেছে নিয়েছেন। গত মাসে আদানির পক্ষে ইতিবাচক রায় এনে দেওয়া আইনি দলেও ছিলেন এই ম্যাকডোনাল্ড। অথচ তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে বিচার বিভাগ প্রথমে মামলাটি করেছিল।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ব্লুমবার্গ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিচার বিভাগের তদন্ত চলাকালে গত নভেম্বর মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে দেখা করেছিলেন আদানি। তবে সেই বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments