Homeআন্তর্জাতিক আইন-আদালতএয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনা: চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়বে অক্টোবরে! দেরি হওয়ার কারণ সুপ্রিম কোর্টে...

এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনা: চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়বে অক্টোবরে! দেরি হওয়ার কারণ সুপ্রিম কোর্টে ব্যাখ্যা করল এএআইবি

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এএআইবি জানিয়েছে, ওই বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত শুধুমাত্র ভারতীয় বিমান চলাচল নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ-র মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনও অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়।

এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার পর এক বছরের বেশি সময় কেটে গিয়েছে। এখনও তদন্তের চূড়ান্ত কোনও রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি। কবে সেই চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়বে? মঙ্গলবার এয়ারক্র্যাফ্‌ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, চলতি বছরের অক্টোবরেই চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। কেন এই রিপোর্ট দিতে দেরি হচ্ছে, তার ব্যাখ্যাও আদালতে দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এএআইবি জানিয়েছে, ওই বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত শুধুমাত্র ভারতীয় বিমান চলাচল নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ (ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন)-র মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনও অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। এতে অন্য দেশের বিশেষজ্ঞ এবং কর্তারা জড়িত। ওই বিমানে অন্য দেশের অনেক যাত্রী ছিলেন। তদন্তে সেই সব দেশের বিশেষজ্ঞেরাও জড়িত।

তদন্তকারীরা আদালতে আরও জানান, ঘটনার ক্রম পুনর্গঠন করতে এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনেক প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের প্রয়োজনও ছিল। অতীতে তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছিল, গত জানুয়ারিতেই তদন্ত সংক্রান্ত চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবে। তার পরে প্রায় ছ’মাস কেটে গিয়েছে। এখনও চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা না-পড়ায় প্রশ্ন উঠছে। বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আদালতে এএআইবি-র আইনজীবী তথা কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, বিমানের বেশ কিছু যন্ত্রাংশ ফরেনসিক এবং প্রযুক্তিগত পরীক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। আর সেই কারণেই তদন্তে অনেকটা সময় গিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, অক্টোবরেই এই মামলার তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট মুখবন্ধ খামে আদালতে জমা করা হবে। তদন্তকারীদের আবেদন মেনে সেই মর্মে নির্দেশও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

২০২৫ সালের ১২ জুন অহমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডন গ্যাটউইকের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় ভেঙে পড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ বিমান। রানওয়ে ছাড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি উল্টো দিকের বিল্ডিংয়ে ধাক্কা খায়। যাত্রী, বিমানকর্মী-সহ মৃত্যু হয়েছিল মোট ২৬০ জনের। গত বছরেই ঘটনার একটি অন্তর্বর্তী তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছিলেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা। ককপিটে শেষ মুহূর্তে পাইলটদের মধ্যে কী কথাবার্তা হয়েছিল, তা প্রকাশ করা হয় ওই রিপোর্টে। বলা হয়, বিমানের ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ আচমকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জ্বালানির সেই সুইচগুলি ‘রান’ থেকে ‘কাট অফ’-এ চলে গিয়েছিল। তার ফলে দু’টি ইঞ্জিনের কোনওটিতেই পর্যাপ্ত জ্বালানি পৌঁছোয়নি। ফলে বিমান উড়তে পারেনি। তবে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়নি।

আন্তর্জাতিক নিয়ম বলছে, যে কোনও বড় বিমান দুর্ঘটনার এক বছরের মাথায় তার তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করতে হয়। কোনও কারণে তদন্ত সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে দিতে হয় অন্তর্বর্তী রিপোর্ট। তাতে বিলম্বের কারণও ব্যাখ্যা করতে হয়। তদন্ত সম্পূর্ণ না হলে প্রতি বছরই এমন একটি করে রিপোর্ট দিয়ে যাওয়ার কথা সংস্থার।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক:

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments