Homeঅপরাধমহিলাকে শ্লীলতাহানি বাধা দেওয়ার জেরে যুবককে হত্যা; ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ আসামি...

মহিলাকে শ্লীলতাহানি বাধা দেওয়ার জেরে যুবককে হত্যা; ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ আসামি গ্রেফতার।

ময়মনসিংহে বাড়ীর মালিক মহিলাকে শ্লীলতাহানি ও বাধা দিতে গেলে শারীরিক আঘাতের জেরে যুবককে গলা কেটে হত্যা; ভাইরাল হওয়া ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পিবিআইয়ের অভিযানে ৪ আসামি গ্রেফতার, একজনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

গত ০৫/০৭/২০২৬ তারিখ সকালে ময়মনসিংহ নগরীর  আরকে মিশন রোডের একটি ভাড়া বাসায় শ্লীলতাহানির অভিযোগে মো. রুবেল (৩৮) নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত রুবেল স্থানীয়ভাবে ‘কাইল্ল্যা রুবেল’ নামে পরিচিত ছিল। বিভিন্ন মিডিয়ায় হত্যার ঘটনা প্রচারিত হয়।

ঘটনার পরপরই পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে ছায়া তদন্ত শুরু হয়। ঘটনায় নিহতের পিতা মো. আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে বাড়ির মালিক তার ৪ ছেলেসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা নং-১৮, তারিখ: ০৬/০৭/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ধারা: ৩২০/৩৪ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় ০৬/০৭/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হক।

ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত চার আসামি-(১) রহমত (৩০), (২) জনি (২৮), (৩) রকি (২৬) এবং (৪) ইমরাজ (১৮)-কে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর আসামিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আসামি জনি (২৮) ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।

০৬/০৭/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে গ্রেফতারকৃত চার আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তাদের মধ্যে আসামি জনি (২৮) ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

পিবিআইয়ের তদন্ত এবং আসামি জনির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে নিহত রুবেল ময়মনসিংহ নগরীর ৩৬ বাড়ি কলোনির আর.কে. মিশন রোডে পারুলের বাসায় একটি কক্ষ ভাড়া নেন। পরবর্তীতে বাসার মালিক পারুল ও তার পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আসামির বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তাকে বাসা ছেড়ে দিতে বলা হয়। ঘটনার দিন ভোরে রুবেলের সঙ্গে পারুলের বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় রুবেল পারুলকে শ্লীলতাহানি করে এবং ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পারুলের চার ছেলে ক্ষুব্ধ হয়ে রুবেলের ওপর হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পারুল ওসিসিতে ভর্তি আছে মর্মে জানা যায়।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments