সুপ্রিম কোর্টে হুলস্থুল! প্রধান বিচারপতির নামে গালিগালাজ, কাগজ ছুড়ে চিৎকার, এজলাসে লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়েও রেহাই
ঘটনাটি ঘটেছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথন এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চে। এলাহাবাদ হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে হুলস্থুল বেধে যায়।
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শুনানি চলাকালীন আচমকাই মেজাজ হারালেন মামলাকারী। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। শুধু তা-ই নয়, প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে গালিগালাজও করতে শোনা যায় তাঁকে। এমনকি, বিচারপতিদের দিকে মামলার কাগজ ছুড়ে দেন ওই মামলাকারী। তাঁর এই কীর্তিতে শোরগোল পড়ে যায় সুপ্রিম কোর্টে। যদিও আদালত ওই মামলাকারীর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করেনি।
ঘটনাটি ঘটেছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথন এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চে। লাইভ ল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল ১১টা নাগাদ ওই এজলাসে হাজির হন প্রবল প্রতাপ নামে জনৈক। এলাহাবাদ হাই কোর্টের এক নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। শুনানির শুরুতেই প্রবল জানান, তিনি নিজেই মামলাটি লড়বেন! অনুমতি পাওয়ার পর আচমকাই সুর চড়াতে থাকেন তিনি। বিচারপতিদের ‘বিচারব্যবস্থার কর্মচারী’ বলে উল্লেখ করেন প্রবল। তাঁর কথায়, ‘‘আমি আপনাদের নির্দেশ দিচ্ছি, সাইবার অপরাধ চালানোর অভিযোগে লখনউয়ের এএসপি-র বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করার কথা বলুন।’’
মামলাকারীর এ-হেন ব্যবহারে হতবাক হয়ে যান বিচারপতিরা। প্রবলের উদ্দেশে বিচারপতি বিশ্বনাথন প্রশ্ন করেন, ‘‘আপনি আমাকে বা আমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন?’’ বিচারপতিদের প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি কোনও জবাব দেননি ওই মামলাকারী। বাদানুবাদ চলাকালীন হঠাৎই প্রধান বিচারপতিকে গালিগালাজ করতে শুরু করেন। শেষে হাতে থাকা কাগজপত্র বিচারপতিদের দিকে ছুড়ে দেন!
মামলাকারীকে বার বার শান্ত করার চেষ্টা করেন বিচারপতি এবং আইনজীবীরা। কিন্তু কারও কোনও কথাতেই কর্ণপাত করেননি প্রবল। শেষপর্যন্ত আদালতের নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে ধরে এজলাস থেকে বার করে নিয়ে যান। কিছু সময়ের জন্য আটক করে রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিচারপতি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ ওই মামলাকারীর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। বিচারপতি বিশ্বনাথন বলেন, ‘‘আমরা তাঁর (প্রবল) বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে চাই না। মামলার নথি আমরা পর্যালোচনা করছি। তবে এলাহাবাদ আদালতের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনও কারণ খুঁজে পাইনি।’’ প্রবলের এ-হেন কীর্তিতে বিচলিত হয়ে পড়েন বিচারপতিরা। বিচারপতি বিশ্বনাথন বলেন, ‘‘এই ঘটনায় আমরা হতাশ। আমরা তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল।’’
উল্লেখ্য, গত বছর এজলাসে শুনানি চলাকালীন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বিআর গবইকে ‘জুতো’ ছুড়ে মারার অভিযোগ উঠেছিল এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে।

