Homeআপিল বিভাগসংবিধান আমাদের স্বাধীনতার চেতনা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার বিচার...

সংবিধান আমাদের স্বাধীনতার চেতনা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার বিচার বিভাগের দায়িত্ব সেই অঙ্গীকারকে সমুন্নত রাখা 

বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি। আজ মঙ্গলবার ছিল তার বিচারিক জীবনের শেষ কর্মদিবস। ঐতিহ্য ও রীতি অনুযায়ী শেষ কর্মদিবসে তাকে সংবর্ধনা প্রদান করেন অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। সংবর্ধনার জবাবে দীর্ঘ বিচারিক জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেছেন তিনি। তার বক্তব্য বিচার বার্তা পাঠকদের জন্য পুরোটা তুলে ধরা হল।

আজ আমার বিচারিক জীবনের একটি বিশেষ দিন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে দুই দশকেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর আজ আমি অবসর নিচ্ছি। তবে আমি এটিকে শুধু বিচারিক জীবনের সমাপ্তি হিসেবে দেখি না। আমি দেখি, আইনাঙ্গনে চার দশকেরও বেশি সময়ের পথচলার একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে।

বিদায়ের এই মুহূর্তে আমি অনুভব করছি এক গভীর অনুভূতি এবং আত্মতৃপ্তি। আমার মন জুড়ে রয়েছে ভীষণ কৃতজ্ঞতাবোধ। এই দেশের এবং মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে আমার নিজের শতভাগ দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। একজন বিচারক হিসেবে প্রজাতন্ত্রের সেবা করতে পেরেছি-এর চাইতে বড় প্রাপ্তি আমার জীবনে আর নেই।

এজন্য মহান আল্লাহর প্রতি সর্বোচ্চ কৃতজ্ঞতা জানাই। এই মুহূর্তে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহীদকে। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। একই সঙ্গে আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত সংগ্রামীদের। তাঁদের অবদান আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

আজ আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি আমার মরহুম পিতা, প্রাক্তন উপ-রাষ্ট্রপতি মাননীয় বিচারপতি এ,কে,এম নুরুল ইসলামকে। তিনি শুধু আমার পিতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন আমার প্রথম শিক্ষক, প্রথম অনুপ্রেরণা। একই সঙ্গে আমি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করছি আমার সদ্যপ্রয়াত মাতা, একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজুকে। আমার বাবা ও মায়ের গড়া ১১ র‍্যাঙ্কিন স্ট্রীট, ওয়ারীর ‘কবিতাঙ্গন’ বাড়িটিতেই আমাদের পরিবারের সকলের বেড়ে ওঠা। এই বাড়িতেই আমার বাবা-মায়ের সান্নিধ্যে আমার আইনি ও সাহিত্যিক মানস যুগপৎভাবে গড়ে ওঠে। এই কবিতাঙ্গন কেবলমাত্র আমাদের পরিবারের সকলের মানস গঠনেই কাজ করেনি, এই বাড়িকে ঘিরে পরবর্তীতে বাংলাদেশের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল সমৃদ্ধ হয়েছে।

আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আমার পরিবার। আমার সম্মানিত সহধর্মিণীর প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। বিচারিক জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি ধৈর্য, ত্যাগ এবং ভালোবাসা দিয়ে আমাকে সাহস যুগিয়েছেন। আমার দায়িত্ব পালনের পেছনে তাঁর অবদান অপরিসীম।

আমার সন্তানরাও সবসময় আমার অনুপ্রেরণার উৎস ছিল। পরিবারের ভালোবাসা, সমর্থন এবং ত্যাগ ছাড়া এত দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা সম্ভব হতো না। আমার জীবনে যতটুকু অর্জন তা শুধু আমার নয়; এটি আমার পুরো পরিবারেরও অর্জন।

আমার আইনজীবী জীবনের কথা আজ বিশেষভাবে মনে পড়ছে। সেই সময় যাঁদের সান্নিধ্যে কাজ করার এবং শেখার সুযোগ পেয়েছি, সেই সকল প্রবীণ ও শ্রদ্ধেয় সিনিয়র আইনজীবীর প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁদের প্রজ্ঞা, পেশাগত সততা, আদালতে উপস্থাপনার দক্ষতা এবং আইনের প্রতি নিষ্ঠা আমার পেশাগত জীবনের ভিত গড়ে দিয়েছে। তাঁদের অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। তাঁদের সকলের স্মৃতির প্রতি আমি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।

বিচারক হিসেবে দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রথমে হাইকোর্ট বিভাগ এবং পরবর্তীতে আপিল বিভাগে বহু সম্মানিত জ্যেষ্ঠ বিচারপতির সঙ্গে একই বেঞ্চে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে আমি কিছু না কিছু শিখেছি। তাঁদের অভিজ্ঞতা, বিচারিক প্রজ্ঞা, সংযম এবং ন্যায়বোধ আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। আজ তাঁদের সকলের প্রতি রইলো আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।

একই সঙ্গে আমার সেই সকল কনিষ্ঠ সহকর্মী বিচারপতিদেরও আজ খুব মনে পড়ছে, যাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে বেঞ্চ ভাগ করে কাজ করেছি। তাঁদের আন্তরিকতা, পরিশ্রম, সৌহার্দ্য এবং পেশাগত নিষ্ঠা বিচারিক দায়িত্ব পালনে আমাকে সহযোগিতা করেছে। আমি তাঁদের প্রত্যেকের সাফল্য ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ কামনা করি। আমার বিশ্বাস, তাঁরাই আগামী দিনের বিচার বিভাগকে আরও শক্তিশালী, আরও আধুনিক এবং আরও জনমুখী করে তুলবেন।

আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে। তাঁর সঙ্গে আপীল বিভাগে একই বেঞ্চে বিচারকার্য পরিচালনা করা আমার জন্য ছিল ভীষণ আনন্দময়। আমি তাঁর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই।

আমি আমার আপিল বিভাগের সকল সহকর্মী বিচারপতির প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনাদের সহযোগিতা, সৌহার্দ্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা আমার কর্মজীবনকে আনন্দময় ও সমৃদ্ধ করেছে। আপনাদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি দিন আমি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করব।

আমি ধন্যবাদ জানাই বিজ্ঞ অ্যাটর্নি জেনারেলকে। ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সম্মানিত সদস্যবৃন্দকে। আজ আপনারা যে আন্তরিকতা ও সম্মানের সঙ্গে আমাকে বিদায় জানিয়েছেন, তা আমার কাছে এক অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকবে। আপনাদের শুভেচ্ছা ও মূল্যায়ন আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করবে।

আমি একটি কথা বিশেষভাবে বলতে চাই। বিচার বিভাগ শুধু বিচারকদের নয়। শুধু আইনজীবীদেরও নয়। এই বিচার বিভাগ আমাদের সবার। বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী-আমরা সবাই এই প্রতিষ্ঠানের অংশ। আমরা যদি সবাই বিচার বিভাগকে নিজের প্রতিষ্ঠান বলে মনে করি, তাহলে এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। বিচার বিভাগের শক্তি একা কোনো বিচারকের শক্তি নয়, একা কোনো আইনজীবীরও নয়। এটি আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। তাই ভবিষ্যতেও বিচার বিভাগের কল্যাণে বার ও বেঞ্চ একসঙ্গে কাজ করবে-এই প্রত্যাশা করি।

আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সকল সহায়ক কর্মীকে। আদালতের দৃশ্যমান সাফল্যের পেছনে আপনাদের নীরব শ্রম, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা রয়েছে। অনেক সময় আপনারা পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করেন, কিন্তু বিচার বিভাগের প্রতিদিনের কার্যক্রম আপনাদের নিষ্ঠার ওপরই নির্ভর করে। আপনাদের অবদান আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।

অবসর গ্রহণ আমার কাছে কোনো সমাপ্তি নয়। এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বিচারকের পদ থেকে অবসর নেওয়া যায়, কিন্তু ন্যায়বিচারের আদর্শ থেকে নয়। যতদিন সামর্থ্য থাকবে, ততদিন দেশের কল্যাণে, বিশেষ করে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের উন্নয়নে আমার অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য দিয়ে অবদান রাখার চেষ্টা করব।

এখন আমি আমার নবীন আইনজ্ঞদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি কথা বলতে চাই। একজন আইনজ্ঞের সবচেয়ে বড় সম্পদ তাঁর সততা। এরপর তাঁর চরিত্র। আর তারপর তাঁর অধ্যয়ন। আইন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন নতুন প্রশ্ন সামনে আসছে। আইনজ্ঞ হতে গেলে শেখার কোনো শেষ নেই। তাই নিয়মিত পড়তে হবে। সংবিধান পড়তে হবে। আইন পড়তে হবে। দেশি-বিদেশি রায় পড়তে হবে। বিচারতত্ত্ব জানতে হবে। যত বেশি পড়বেন, তত বেশি সমৃদ্ধ হবেন। বই হাতের কাছে না পেলে প্রয়োজনে তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অনলাইনেই পড়ে ফেলতে হবে।

আমাদের বিচার বিভাগের সামনে আগামী দিনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। মামলার জট কমাতে হবে। বিচারকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে হবে। মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেড়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে বিচার বিভাগকে আরও দক্ষ, আরও আধুনিক এবং আরও সেবামুখী হতে হবে।

বিচার শুধু প্রতিষ্ঠিত হলেই যথেষ্ট নয়; মানুষকেও তা দেখতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে যে বিচার হয়েছে। বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের আস্থা। সেই আস্থা রক্ষা করাই আমাদের সর্বোচ্চ দায়িত্ব।

আমি বিশ্বাস করি, বিচক্ষণভাবে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বিচার বিভাগের দক্ষতা বাড়াবে, মানুষের ভোগান্তি কমাবে এবং ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার আরও সহজ করবে। এর ফলে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতাও আরও বৃদ্ধি পাবে।

জেলা পর্যায়ের বিচারকদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে সকল সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতাকে জয় করে ধৈর্য্য সহকারে নির্ভয়ে ন্যায়ের পক্ষে থাকুন তবেই জনগনের আস্থা অটুট থাকবে এবং আমি আশাবাদী নতুন প্রজন্মের বিচারকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় পর্যায়ক্রমে আপনাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত উৎকর্ষ অর্জিত হবে।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মাননীয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ আরও আধুনিক, আরও দক্ষ, আরও মানবিক এবং আরও জনমুখী হয়ে উঠবে। বিচারিক উৎকর্ষের যে ধারা আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও বিকশিত হবে। আলেকজান্ডার হ্যামিল্টন যথার্থই বলেছিলেন, বিচার বিভাগের প্রকৃত শক্তি বলপ্রয়োগে নয়; তার শক্তি নিহিত তার বিচারবোধ, স্বাধীনতা এবং জনগণের আস্থায়।

আমাদের সংবিধান শুধু রাষ্ট্র পরিচালনার দলিল নয়। এটি আমাদের স্বাধীনতার চেতনা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার। বিচার বিভাগের দায়িত্ব সেই অঙ্গীকারকে সমুন্নত রাখা। একজন বিচারকের আনুগত্য কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ক্ষমতার প্রতি নয়। তাঁর আনুগত্য সংবিধানের প্রতি, আইনের প্রতি এবং নিজের বিবেকের প্রতি।

প্রজন্মের বিচারকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় পর্যায়ক্রমে আপনাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত উৎকর্ষ অর্জিত হবে।

আমাদের সংবিধান শুধু রাষ্ট্র পরিচালনার দলিল নয়। এটি আমাদের স্বাধীনতার চেতনা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার। বিচার বিভাগের দায়িত্ব সেই অঙ্গীকারকে সমুন্নত রাখা। একজন বিচারকের আনুগত্য কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ক্ষমতার প্রতি নয়। তাঁর আনুগত্য সংবিধানের প্রতি, আইনের প্রতি এবং নিজের বিবেকের প্রতি।

পরিশেষে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতি, আপীল বিভাগের মাননীয় বিচারপতিবৃন্দ, বিজ্ঞ অ্যাটর্নি জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্মানিত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবীবৃন্দ ও উপস্থিত বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রির কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং বিচার বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রত্যেকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

মহান আল্লাহ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে শান্তি, ন্যায়, সমৃদ্ধি ও কল্যাণে সমৃদ্ধ করুন। তিনি যেন আমাদের বিচার বিভাগকে সংবিধানের আদর্শ, আইনের শাসন, সত্য, ন্যায়, প্রজ্ঞা ও মানবিকতার আলোয় আরও সমুজ্জ্বল করে তোলেন।

আমি আজ বিদায় নিচ্ছি বিচারকের আসন থেকে, কিন্তু ন্যায়ের আদর্শ থেকে নয়। সংবিধানের প্রতি আমার আনুগত্য, আইনের শাসনের প্রতি আমার বিশ্বাস এবং এই মহান প্রজাতন্ত্রের প্রতি আমার অঙ্গীকার আজীবন অক্ষুণ্ণ থাকবে।

দীর্ঘ কর্মজীবনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সেই পথে আমার কোনো আচরণ, কথা বা সিদ্ধান্তে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কারও মনে কষ্টের জন্ম হয়ে থাকে, তবে বিদায়ের এই মুহূর্তে বিনীতভাবে অনুরোধ করব, সেই মনোকষ্ট ভুলে যাবেন। আমি আপনাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ এবং আপনাদের শুভকামনা নিয়েই আমার নতুন জীবনের পথচলা শুরু করতে চাই।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments