বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (Bangladesh Environmental Lawyers Association, BELA) বাংলাদেশের একটি অলাভজনক পরিবেশ-আইনভিত্তিক সংগঠন, যা পরিবেশগত ন্যায়বিচার, জনস্বার্থে মামলা এবং পরিবেশ আইন বাস্তবায়নে কাজ করে। ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে এটি দেশের অন্যতম প্রভাবশালী পরিবেশগত অধিকারবিষয়ক সংগঠন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
প্রতিষ্ঠা ও লক্ষ্য
BELA প্রতিষ্ঠা করেন ড. মহিউদ্দিন ফারুক, যার লক্ষ্য ছিল পরিবেশ আইনকে কার্যকর করা এবং পরিবেশগত ক্ষতির শিকার মানুষকে আইনি সহায়তা প্রদান। সংগঠনটি পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বন, নদী, জলাভূমি ও উপকূলীয় সম্পদের সুরক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব নীতি প্রণয়নে কাজ করে।
প্রধান কার্যক্রম
BELA-এর কাজের অন্যতম ভিত্তি হলো জনস্বার্থে মামলা (Public Interest Litigation)। সংগঠনটি অবৈধ পাহাড় কাটা, জলাভূমি ভরাট, নদী দখল, জাহাজভাঙা শিল্পের পরিবেশগত ঝুঁকি, বন উজাড়, বায়ু ও পানি দূষণ এবং অন্যান্য পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে। পাশাপাশি তারা গবেষণা, নীতিগত সুপারিশ, প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ আইন বিষয়ক প্রকাশনাও পরিচালনা করে।
উল্লেখযোগ্য অবদান
সংগঠনটি বাংলাদেশের পরিবেশগত বিচারব্যবস্থা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জাহাজভাঙা শিল্পে পরিবেশগত ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করার মতো গুরুত্বপূর্ণ আদালতের রায়ে BELA-এর আইনি উদ্যোগ প্রভাব ফেলেছে। সংগঠনটি UNEP Global 500 Roll of Honour (২০০৩), বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ পুরস্কার (২০০৭) এবং Tang Prize in Rule of Law-এর যৌথ বিজয়ী (২০২০) হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
বর্তমান ভূমিকা
বর্তমানে BELA পরিবেশগত সুশাসন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, টেকসই উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত অধিকার রক্ষায় আইনি ও নীতিগত পর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করে এবং পরিবেশ সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও আইনি সহায়তার ব্যবস্থাও পরিচালনা করে।

