আজ বিচারপতি ফাতেমা নাজিবের বিচারিক জীবনের শেষ কর্মদিবস। একটি দীর্ঘ, গৌরবময় ও মর্যাদাপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও তাঁর কর্ম, সততা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার বিচারাঙ্গনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনেকে হয়তো মনে করেন, তাঁর কর্মজীবনের স্বাভাবিক পরিণতি হওয়া উচিত ছিল আপিল বিভাগে পদোন্নতি। সেই মতের যথেষ্ট ভিত্তি থাকতে পারে। কিন্তু আমার কাছে সেটিই মূল বিষয় নয়। একজন বিচারকের প্রকৃত মূল্যায়ন তাঁর পদ বা পদমর্যাদায় নয়; বরং রাষ্ট্র তাঁর ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তিনি তা কতটা সততা, দক্ষতা, প্রজ্ঞা, নিরপেক্ষতা ও সাহসের সঙ্গে পালন করেছেন—ইতিহাস শেষ পর্যন্ত সেটিই বিচার করে।
সে বিচারে বিচারপতি ফাতেমা নাজিব নিঃসন্দেহে সফল। তাঁর রায়, তাঁর আচরণ এবং তাঁর পেশাগত জীবন বারবার প্রমাণ করেছে যে ন্যায়বিচার কেবল আইনের ভাষায় নয়, বিচারকের বিবেক, সততা ও নৈতিক দৃঢ়তার মধ্য দিয়েও প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি ক্ষমতার নয়, ন্যায়ের মর্যাদা রক্ষায় বিশ্বাসী ছিলেন। বিচারকের আসনে বসে তিনি যে নিষ্ঠা, শুদ্ধতা ও নিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে নতুন প্রজন্মের বিচারকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

ইতিহাসে খুব বেশি বিচারকের নাম অম্লান থাকে না। কেবল তাঁরাই ইতিহাসে স্থায়ী আসন লাভ করেন, যাঁরা তাঁদের কর্মের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করেন এবং বিচার বিভাগের মর্যাদা সমুন্নত রাখেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বিচারপতি ফাতেমা নাজিব সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যাঁদের নাম ভবিষ্যতেও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।
আপনার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, শান্তিময় ও মর্যাদাপূর্ণ অবসরজীবন কামনা করি। বিচারাঙ্গনে আপনার অবদান কেবল অতীতের একটি গৌরবময় স্মৃতি হয়ে থাকবে না; বরং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ন্যায়, সততা ও পেশাগত নিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে পথ দেখাবে।
শ্রদ্ধা ও শুভকামনা, বিচারপতি ফাতেমা নাজিব। আপনার কর্মই আপনার সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয়, আর সেই পরিচয়ই আপনাকে ইতিহাসে সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠিত করবে।

