Homeঅধস্তন আদালতশাহজালাল মাজারের দানবাক্সে চিঠি, স্বামীকে ‘কুপথে’ নেওয়া ব্যক্তিদের বিচার দাবি

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে চিঠি, স্বামীকে ‘কুপথে’ নেওয়া ব্যক্তিদের বিচার দাবি

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে জেলা প্রশাসনের সিলগালা করা ঐতিহাসিক ডেগ ও নতুন করে স্থাপন করা দানবাক্সে টাকার পাশাপাশি কয়েকটি চিঠিও পাওয়া গেছে। ১৫ই আগষ্ট শনিবার সকালে দানবাক্স খোলার পর এসব চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিগুলোতে ব্যক্তিগত নানা ইচ্ছা, দুঃখ-কষ্ট ও প্রার্থনার কথা লেখা রয়েছে।

একটি চিঠিতে হেনা নামের এক নারী তাঁর স্বামীকে ‘কুপথে’ নেওয়া ব্যক্তিদের বিচারের জন্য প্রার্থনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘যারা আমার স্বামীকে কুপথে নিছে, আল্লাহ তুমি তাদের বিচার করিও এবং তাদের হেদায়েত করিও। আমার মতো কষ্ট যেন কেউ না পায়। আল্লাহ, তুমি মাদকদ্রব্য পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দাও।’

হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার দান করেন। অনেকে চিরকুটে নিজেদের মনোবাসনা লিখে দানবাক্সে রেখে যান। মাজার কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, দানবাক্সে চিঠি পাওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রায় প্রতিবারই এমন চিঠি পাওয়া যায়।

আরেকটি চিঠিতে ব্যক্তিগত প্রার্থনার পাশাপাশি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার সুস্থতা, দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়েছে। একই চিঠিতে নেতা-কর্মীদের হয়রানি থেকে রক্ষার জন্যও প্রার্থনা করা হয়েছে।

মাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, আগে মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হতো না। ফলে দানবাক্সে পাওয়া এসব চিঠির বিষয়বস্তু সাধারণ মানুষের সামনে আসেনি। এবার নিয়ে তিনবার প্রকাশ্যে মাজারের টাকা গণনা করা হয়েছে। প্রতিবারই টাকার সঙ্গে বেশ কিছু চিঠি পাওয়া গেছে।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সদস্য এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আগের দুইবারের মতো আজও কয়েকটি চিঠি পাওয়া গেছে। তবে তিনি এখনো চিঠিগুলোর বিষয়বস্তু পড়েননি।

৩৫ দিন পর ১৫ই আগষ্ট শনিবার তৃতীয়বারের মতো হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের ঐতিহাসিক ডেগ ও নতুন করে স্থাপন করা দানবাক্স খুলে টাকা গণনা করা হয়। এতে প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা পাওয়া গেছে। বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি পাউন্ড, ডলার, রিয়াল, রুপি, দিরহামসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া যায়।

এর আগে গত ২২ জুন ও ১১ জুলাই দুই দফায় মাজারের ডেগ ও দানবাক্স খুলে টাকা গণনা করা হয়েছিল। প্রথম দফায় প্রায় ১৭ লাখ টাকা ও দ্বিতীয় দফায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা পাওয়া যায়। এসব টাকা জেলা প্রশাসকের ব্যবস্থাপনায় নতুন করে চালু করা একটি ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে করেন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি মাজারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর অংশ হিসেবে ১৮ জুন বিকেলে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে মানুষের দানের অর্থ রাখার ঐতিহাসিক ডেগগুলোও সিলগালা করা হয়।

এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনাও হয়। পরে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির উদ্যোগেই প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্স ও ডেগের টাকা গণনা করা হচ্ছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments