Homeজাতীয়বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে মনোনয়নের সুযোগ সংবলিত বিধি...

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে মনোনয়নের সুযোগ সংবলিত বিধি সংশোধন কেন নয়

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিকে মনোনয়নের সুযোগসংবলিত গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালার ৭ বিধি সংশোধন অথবা নতুন প্রবিধান প্রণয়ন প্রশ্নে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ ২০শে জুলাই সোমবার এ রুল দেন।

রুলে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের জন্য ২০২৪ সালের ওই প্রবিধানমালার ৭ বিধি সংশোধন অথবা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিংবা রাজনৈতিক দলের পদাধিকারী ব্যক্তিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিতে নির্বাচন বা মনোনয়ন বা অনুমোদনের অযোগ্য ঘোষণা করে নতুন প্রবিধান প্রণয়নে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে স্বীকৃত শিক্ষানুরাগী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, সৎ–সুপরিচিত সমাজকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, চিকিৎসক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট নাগরিককে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নিশ্চিতের পাশাপাশি এ বিষয়ে বিচারিক নির্দেশনা কেন জারি করা হবে না, রুলে সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের জন্য ২০২৪ সালে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা প্রণয়ন করা হয়। প্রবিধানের ৭ বিধির ভাষ্য, গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শক্রমে স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলার সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মচারী, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি বা স্থানীয় খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও জীবনবৃত্তান্ত–সংবলিত প্রস্তাব শিক্ষা বোর্ডের কাছে পাঠাবে। তবে শর্ত সভাপতি পদে প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের নামের তালিকাক্রম মনোনয়নের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই অগ্রাধিকারক্রম হিসেবে গণ্য হবে না। শিক্ষা বোর্ড উপবিধির অধীন প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের মধ্য হতে একজনকে গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি মনোনীত করবে।

প্রবিধানমালা ৭ বিধির বৈধতা নিয়ে নবম শ্রেণিতে পড়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও জামালপুরের বাসিন্দা মো. রুবেল মিয়া গত মাসে ওই রিটটি করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. নাদির খান, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. সোহেল রানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান ও মাহফুজ বিন ইউসুফ।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে হবে বলে জানান আইনজীবী মো. নাদির খান। তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিতে সভাপতি পদে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত বা পদধারী ব্যক্তিকে মনোনয়ন করা হলে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম তথা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে কখনো কখনো জটিলতা সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিয়েও বিতর্ক দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা তথা দলীয় প্রভাবমুক্ত গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি কমিটিতে নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সমীচীন। যে কারণে রিটটি করা হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments