ঘড়ির কাটায় তখন ১টা ৪০ মিনিট। সফেদ পাঞ্জাবি পড়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর এজলাস কক্ষের কাঠগড়ায় হাসানুল হক ইনু। সাবেক মন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি। কাচঘেরা ওই কাঠগড়ায় রাখা তিনটি চেয়ারের একটিতে বসলেন তিনি। কাঠগড়ার সামনে রাখা চেয়ারে মুখে মাস্ক পড়ে বসেছিলেন তার স্ত্রী জাসদ নেত্রী আফরোজা হক রীনা। স্ত্রীর চোখে চোখ পড়তেই কুশল বিনিময় করলেন তিনি। দশ মিনিট পর এজলাসে আসলেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। এ সময় এজলাস কক্ষে থাকা আইনজীবী সাংবাদিকসহ সকলেই দাড়িয়ে পড়েন। এজলাসে আসন গ্রহন করেই চেয়ারম্যান ঘোষণা করলেন, “রায়টি আমরা ইংরেজিতে লিখেছি। তবে সবাই যাতে বুঝতে পারে সেজন্য বাংলায় অনুবাদ করে দেওয়া হয়েছে।”
রায় ঘোষণার আগে যখন ইনুকে কাঠগড়ায় আনা হয় তখন তিনি পকেট থেকে বের করলেন একটি রুমাল। সেটা হাতে নিয়ে মুখ ও গলার ঘাম মুছলেন। রায় ঘোষণাকালে পকেট থেকে বের করলেন একটা চিরকুট। যেখানে লেখা রয়েছে তার বক্তব্য। সেটাতে চোখ বুলিয়ে নিলেন কয়েকবার। তারপর আবার পকেটে ঢুকিয়ে রাখলেন। হয়ত রায় ঘোষণার পর সেটা পড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু সর্বোচ্চ শাস্তি না দিয়ে যখন তিনটি চার্জে দশ বছর করে ৩০ বছর দন্ড ঘোষণা করা হলো তখন তিনি ছিলেন অনেকটাই নির্ভার। তার চেয়ে বেশি স্বস্তিদায়ক ছিলো যখন ট্রাইব্যুনাল ঘোষণা করলেন যে ৩০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ইনুকে একের পর এক ভোগ করতে হবে না। এই সাজা চলবে যুগপৎভাবে। অর্থাৎ সবমিলিয়ে তাকে খাটতে হবে দশ বছর মাত্র। এসময় তাকে মুখ টিপে হাসতেও দেখা যায়। এমনকি আইনজীবীদের সঙ্গে কাচঘেরা কাঠগড়া থেকে থাম্বস আপ দেখাতে দেখা যায়। আর কাঠগড়ার বাইরে তার স্ত্রী রীনা স্বজনদের জড়িয়ে ধরে করেন কান্না। আইনজীবীদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন। তবে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ইনু ও তার স্ত্রী দু’জনই নিশ্চুপ ছিলেন। আইনজীবীরাও পরামর্শ দেন প্রতিক্রিয়া না জানাতে। আফরোজা হক রীনা বলেন, কোন প্রতিক্রিয়া দেব না। যদিও এজলাস থেকে বের হওয়ার পর তারা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেননি। মিডিয়া কর্মীদের সামনে ব্যক্ত করেছেন ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া। যা দৃষ্টি কাড়ে গণমাধ্যম কর্মীদের।
পকেট থেকে বের করলেন চিরকুট তবে পড়া হলো না ইনুর!
RELATED ARTICLES
Recent Comments
on Hello world!

