দুই মাসের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ বাগেরহাটের মোংলার চিল ইউনিয়নের জয়মনির ঘোল এলাকার মিরাজ শেখকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়নি, তা নিশ্চিত করতে তাঁকে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার ওই আদেশ দেন। এর আগে ২২শে এপ্রিল মিরাজের বাবা মো. মোস্তফা শেখ আবেদনকারী হয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন।
মিরাজ (৩০) সুন্দরবনে মাছ ধরার পাশাপাশি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। এর আগে ‘এক মাসের বেশি নিখোঁজ, কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ স্ত্রীর’ শিরোনামে গত ১৬ মে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটিসহ এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন যুক্ত করে ওই রিটটি করা হয়।
সংবিধান অনুযায়ী মিরাজের মৌলিক অধিকার রক্ষায় রিটটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানান রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম। তিনি বিচারবার্তাকে বলেন, রিটে মিরাজ শেখকে আদালতে হাজির করতে এবং তাঁর অবস্থান ও পরিণতি প্রকাশ করতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল, যাতে আদালত নিশ্চিত হতে পারেন যে তাঁকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়নি।
রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাবের মহাপরিচালক, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
হাইকোর্টে উপস্থিত মিরাজ শেখের স্ত্রী মুক্তা বেগম বলেন ‘আমি নিজে দেখছি, কোস্টগার্ড এর দুজন সদস্য স্পিড বোটে তুলে আমার স্বামীকে নিয়া গ্যাছে। এহন তারা অস্বীকার করে।’ মুক্তা খাতুন থাকেন সুন্দরবন-সংলগ্ন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকায়। দুই মাসের বেশি সময় ধরে তাঁর স্বামী মিরাজ শেখ (৩০) নিখোঁজ। তিনি কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে তাঁর স্বামীকে গুম করার অভিযোগ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী চায়ের দোকানদার আলামিন জানান ১০ই এপ্রিল তার কাছে মিরাজ শেখের মটরসাইকেল জিম্মায় রেখে তাকে নিয়ে যায়। এসময় তার স্ত্রী মুক্তা খাতুন বলেন, খবর পেয়ে তিনি ছুটে গিয়ে দেখেন, কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে তুলে মিরাজকে মোংলার দিকে নেওয়া হচ্ছে। পরে স্থানীয় কোস্টগার্ডের সাথে কথা বলেন তারা জানায় সন্দেহজনক বিবেচনায় তারা ধরে নিয়ে গেছেন। ৩দিন জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু পেলে কারাগারে পাঠাবেন না হলে ছেড়ে দিবেন।
এরপরও মিরাজের খোঁজ না পেয়ে গত ২৩শে মে মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন স্ত্রী মুক্তা খাতুন। এরপরে গত ৮ মে মিরাজ শেখের সন্ধান চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মোংলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তার পরিবার। তার আগে গত ২৩ এপ্রিল এ ছাড়া স্বামীর সন্ধান ও ঘটনার তদন্ত চেয়ে ১৪ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন মুক্তা খাতুন।

