Homeঅধস্তন আদালতজামায়াত থেকে বহিষ্কৃত এমপি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত এমপি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন এই সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। সংসদ সদস্য যাঁকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, ওবায়দুর রহমান তাঁর মামা।

ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেছেন, সংসদ সদস্যের ‘অনৈতিক সম্পর্কের’ প্রতিবাদ করায় এবং একটি ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় তাঁর হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করে তাঁকে মারধর করা হয়েছে। গত ২১ জুলাই ওবায়দুর রহমান এই মামলা করেন।

মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪) ছাড়াও তাঁর চার সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন আমিনুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোস্তাসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।

এ মামলায় আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা ২২শে জুলাই বুধবার আমিনুরকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত আসামি আমিনুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালত পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওবায়দুর রহমান রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজগার্ডেন টাওয়ার’-এ তাঁর বোনের বাসায় থাকতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলামের ওই বাসায় যাতায়াত ছিল। একপর্যায়ে ওবায়দুরের ভাগনির সঙ্গে নজরুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে ওবায়দুর পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে এ সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নজরুল ইসলাম তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও ওই তরুণীর কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করতে থাকে। এতে নজরুল ইসলামের সন্দেহ হয়, ওবায়দুরই গোপনে ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের কাছে দিয়েছেন। সেই সন্দেহ থেকেই ১৪ জুলাই তাঁর নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালান।

বাদী ওবায়দুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন বেলা ১১টার দিকে আমিনুর রহমান কৌশলে তাঁকে বাসার ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিদের সঙ্গে নিয়ে লাঠি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আমিনুর তাঁকে মেঝেতে ফেলে গলাচেপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁর মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম চিৎকার করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে আহত অবস্থায় তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০শে জুলাই সোমবার রাতে ওই তরুণীর সঙ্গে তাঁর ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভিডিওতে তরুণীর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্যকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়।

ভিডিও প্রকাশের পরপর জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করতে থাকেন। তবে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে জানান, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম বেগম। গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং তাঁর প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে ঢাকায় মরিয়াম বেগমের বাবা মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

এ ঘটনা নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। ২২শে জুলাই বুধবার দলটির নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। জামায়াতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নৈতিক স্খলনের’ জন্য গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করবে জামায়াতে ইসলামী।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments