সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় তিন বছরের কারাদণ্ডাদেশ হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুর চৌধুরীর। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ২৮শে জুলাই মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় দেন। দুদকের আইনজীবী এস এম আবুল কালাম (আজাদ) এ খবর জানিয়েছেন। ১৫ জুলাই রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।
এস কে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যান। ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এর পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। এস কে সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, এস কে সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁর এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়দেনা, আয়ের উৎস ও সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ ২১ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিল দুদক। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি সেই বিবরণী দাখিল করেননি। ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই বছরের ৬ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচার। মামলার সাতজন সাক্ষীর সবার সাক্ষ্য নিয়ে আদালত রায় দিলেন।
আলোচিত পি কে হালদারের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম আসায় ২০২২ সালে এস কে সুরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অভিযোগ আছে, এস কে সুর ডেপুটি গভর্নর থাকাকালে আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন এবং সুবিধা নিয়েছেন।

