চট্টগ্রামে দশ বছর বয়সী শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীকে অপহরণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যার দায়ে আসামি মোঃ রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার (২০ জুলাই) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাইব্যুনাল দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং ৯(৪)(খ) ধারায় ১০ বৎসর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকাল আনুমানিক সাড়ে চারটায় নগরীর পাহাড়তলী থানার সরাইপাড়া কাজীর দীঘি এলাকায় নিজ বাসা থেকে আরবি পড়ার উদ্দেশ্যে বের হয় শিশুটি। এরপর সে আর ফিরে আসেনি।
আসামি মোঃ রুবেল ছিল ওই এলাকার একজন সবজি বিক্রেতা। শিশুটির দাদির কাছে সে নিয়মিত সবজি বিক্রি করত।
আদালতের রায়ে উঠে এসেছে, প্রায় তিন মাস ধরে আসামি শিশুটিকে একটি বিড়ালের বাচ্চা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। শিশুটি বিড়ালের বাচ্চা খুব পছন্দ করত। ঘটনার আগের দিন ২০ মার্চ এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, আসামি তার সবজির ভ্যানের পাশে দাঁড়িয়ে শিশুটির সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলছে। পরদিন বিকালে সেই প্রতিশ্রুতি দেখিয়েই সে শিশুটিকে একটি চারতলা ভবনের চতুর্থ তলার তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। ওই ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া ঢাকায় যাওয়ার সময় কবুতরকে খাবার দেওয়ার জন্য চাবি আসামির কাছে রেখে গিয়েছিলেন।
সেখানে ধর্ষণচেষ্টার সময় শিশুটি চিৎকার করে দরজার দিকে ছুটে গেলে আসামি তার গলা চেপে ধরে ও মুখে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে মৃতদেহ দুটি চটের বস্তায় ভরে নিজের ভ্যানে করে আলমতারা পুকুর পাড়ের ময়লার স্তূপে ফেলে দেয়। শিশুটির পরনের কাপড় একটি লাল ব্যাগে ভরে কলকা সিএনজি পাম্পের পাশে কালভার্টের নিচের নালায় ফেলে দেয়।
এরপর আট দিন ধরে পরিবারটি শিশুটিকে খুঁজে বেড়ায়। এই সময়ে আসামি নিজেও খোঁজাখুঁজিতে অংশ নেয়। ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ভোরে আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তার দেখানো ও শনাক্ত মতে পুকুর থেকে অর্ধগলিত মৃতদেহ এবং নালা থেকে শিশুটির কাপড় উদ্ধার করা হয়।
মামলার বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষে ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিল।
রায়ে আদালত পর্যবেক্ষণ করেন, শিশুরা পৃথিবীকে সন্দেহ করতে শেখেনি। একটি বিড়ালের বাচ্চার প্রতিশ্রুতি একটি শিশুর কাছে যে সরল আনন্দের, সেই সরল আনন্দকেই এখানে অপরাধের ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
আদালত আরও বলেন, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং তিন মাসের পরিকল্পনার পরিণতি। হত্যার পর আট দিন ধরে মৃতদেহ গোপন রাখা হয়েছে, যে সময়ে শোকার্ত পরিবারটি সন্তানের খোঁজে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে। এই দীর্ঘ সময়েও আসামির মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি।
সবদিক বিবেচনা করে আদালত বলেন, মৃত্যুদণ্ডই এই অপরাধের একমাত্র উপযুক্ত সাজা।

