মাদারীপুর সদর উপজেলায় থানার বারান্দার গ্রিল ভেঙে এক নারী (৩৫) পালিয়ে গেছেন। ৯ই জুলাই বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সদর মডেল থানায় এ ঘটনা ঘটে। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও এক পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
১০ই জুলাই শুক্রবার বেলা তিনটায় প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবিবুর রহমান।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৯ই জুলাই রাতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই নারীকে আটক করেন সদর মডেল থানার ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোকসেদুর রহমান। পরে তাঁকে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানার মূল ভবনটি নির্মাণাধীন থাকায় অস্থায়ীভাবে সদর থানার ওসির বাসভবনের নিচতলায় থানার কার্যক্রম চলছে। সেখানে কোনো হাজতখানা না থাকায় বারান্দার একটি কক্ষে পুলিশি হেফাজতে ওই নারীকে রাখা হয়। রাত দেড়টার দিকে সুযোগ বুঝে তিনি ওই কক্ষের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। সকালে ওই ঘটনা জানাজানি হলে সদর মডেল থানার এসআই রমজান আলীসহ (বৃহস্পতিবার রাতে দায়িত্বরত কর্মকর্তা) দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করেন পুলিশ সুপার।
আটক নারীর পালিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোকসেদুর রহমান বলেন, ‘আমার কথা বলা নিষেধ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (সদর সার্কেল) সঙ্গে কথা বলেন।’
এদিকে ওই ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সর্কেল) ফারিহা রফিককে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে ওই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, পালিয়ে যাওয়া ওই নারীকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

